Prabir Kundu Header
Home >> Reviews >> Raees

সামান্য মদ বিক্রেতাকে হিরো বানিয়ে দেবেন না প্লীজ। এদেশের পক্ষে সেটা খুবই ভয়ানক।

Published On 28th Jan, 2017

Film Name : Raees
Release Date : 25th January, 2017
Director : Rahul Dholakia
Rating : Rating

আমি অনেকদিন ধরেই নানান জায়গায় বলে থাকি 'রাবণকে ভালো বলা মানে এই নয় যে রামকে খারাপ বলছি' দুটো জিনিস সবসময় প্রতিপক্ষ হয় না, দুজন একইসাথে ভালো বা একইসাথে মন্দ হতেই পারে। গতকাল কাবিলের হেব্বী প্রশংসা করেছিলাম, তাই শুরুতে এই জ্ঞানখানি ফেলে রাখলাম, যে পারবে উঠিয়ে নিন।

হ্যাঁ, আপনারা ঠিকই ধরেছেন, আমি রইসের প্রশংসাই করতে বসেছি। সর্বোপ্রথম গত দুদিন ধরে রইসকে বাঙালী্রা টিভিতে রেডিওতে যেভাবে রাইস রাইস করে গেল সেটা দেখে মাইরি হেব্বী খিল্লি করতে ইচ্ছে করছিল। বাবু, তোমার 'আ'-এর দোষ আছে, ওটা সারাও তারপর ক্যামেরাতে বাইট দিও। ঠিকাছে?

কাবিলের সাথে রইস-এর পার্থক্য দিয়ে লেখা শুরু করা যাক। কাবিল আদ্যপান্ত একটা প্রেমের এবং প্রতিশোধের গল্প। হ্যাঁ গল্প। গল্প মনে করে দেখলে ঠিকাছে, সাথে বিজ্ঞান বই নিয়ে পয়েন্ট পয়েন্ট লজিক খুঁজতে গেলে হাতে থাকবে 'নবডঙ্কা'। কিন্তু রইস সেই তুলনায় অনেক রিয়েল। সিনেমার খাতিরে শাহরুখের নানান বিগ ক্লোজ-আপ শটের ভীড়েও শেষ অবধি রইস রিয়েল। সেখানে কল্পনার আশ্রয় বিশেষ নেই বললেই চলে।

কাবিলে গল্পের গতি খুব ফাস্ট, সবকিছুই খুব চটপট করে হইয়ে যাচ্ছিল। সেই তুলনায় রইস আমার একটু স্লো মনে হল। যদিও দুটো সিনেমাই প্রায় একই রকম লম্বা, তবু দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল রইস যেন অনেক বেশী লম্বা ছবি। অকারণে গান এবং ছোটবেলার কাহিনীকে অতটা লম্বা টানার দরকার ছিল বলে আমার অন্তত মনে হয় নি।

একটি ছোট ছেলে যে তার মায়ের থেকে শিখেছে কারো ক্ষতি না করে যেকোনো ধান্দাই ভালো। সে ছোট থেকেই খুব সেয়ানা। বাচ্চা বেলাতেই সে প্রায় বচ্চন হয়ে গেছে। সে হেব্বী সাহসের নানান কাজ করে চোরাই মদ কারবারে যুক্ত হয় এবং নিজের ধান্দা শুরু করে ক্রমে বড় ডিলার হয়ে যায়। নিজের বুদ্ধি এবং সাহসের জোরে সকলকে পিছনে ফেলে সে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

কাজ সে বেআইনি করে কিন্তু উসুলে সে একেবারে পাকা। খারাপ কাজ সে করে না। সে মেয়েদের সম্মান করে, অকারণে কাউকে খুন করে না, গরীব লোকের উপকার করে ইত্যাদি।

তবে এই সিনেমা যদি সত্তর জন লোক শাহরুখের জন্যে যায় তবে তিরিশ জন এমন লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে যারা নওয়াজউদ্দিনকে দেখতে গেছিল। এই সিনেমায় নওয়াজের অভিনয় দেখে মজা লাগবে। এই ছবিতে তার ডায়লগ থ্রোয়িং-এ একটা অদ্ভুত মজা আছে। এখানে কোনো চরিত্রকেই বাস্তবের খোসা থেকে বেশী ফুলিয়ে দেখানো হয় নি, তবে তাদের ইমেজকে একটু বেশী রকম বাড়াবাড়ি করে দেখানো হয়েছে। দেখে মনে হবে না, এমনটা বাস্তবে হয় না। কিন্তু যেভাবে হচ্ছে সেটা বড় আনরিয়েল।

সিনেমায় শাহরুখ তো নেতা মন্ত্রীদের সবাইকে হাত করে নিয়েছে দেখলাম, তাহলে একটা র‍্যালি যাত্রায় তার এত কেন ফাটছিল সেটা বুঝলাম না। মানে হঠাৎ এত্ত বুদ্ধিমান লোকটা এরকম ইগোয়িস্টিক হয়ে পড়ল এবং এতটাই রাগে অন্ধ হয়ে গেল যে নিজের ধান্দার নিজেই বারোটা বাজালো। হুম, দাদা আমার খুব ইমোশোনাল বুঝি!!

ট্রেলার দেখে মনে হয়েছিল, মূল লড়াইটা নওয়াজ এবং শাহরুখের মধ্যে হবে। দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও শাহরুখের মূল যুদ্ধ বাঁধলো নেতা মন্ত্রীদের সাথে। নওয়াজের চরিত্রটি যেন একটা মশা, শাহরুখের কাছে। গব্বর সিং যেমন বীরুকে মারার আগে বাসন্তিকে নাচিয়ে মজা নিয়েছিল, শাহরুখ যেন সেরকমই নওয়াজের সাথে লুকোচুরি খেলে মজা পেত। তার আসল যুদ্ধ ছিল তার মতই যারা বেআইনি মদের ধান্দা করে তাদের সাথে।

যে প্রথমে শাহরুখকে উপকার করেছিল, পরে সেই যে বাঁশটা দেবে সেটা গল্পের প্রথম সিন থেকেই বোঝা যায়। চরিত্রদের মুখে গানের বোল এবং রাস্তায় সিনেমার পোস্টার দিয়ে সময়কে ধরার চেষ্টা অনেক পুরোনো হয়ে গেছে সেই 'ওয়াসিপুর' থেকে দেখে আসছি। ওটা এখন বড্ড ক্লিশে লাগে। নতুন কিছু ভাবা যাক। এই দেখ, আবার আমার থেকে চেয়ে বসবেন না যেন।

মাহিরা খান সিনেমায় কেন ?? মানে সেটা তো আমারও প্রশ্ন, ওরকম নায়িকার থেকে আমাদের পাড়ার ক্ষেদীকে দেখতে বেশী ভালো, এবং ক্ষেদীর ফিগার খানাও বেশ টইটম্বুর গোছের। মানে বলতে চাইছি, নায়িকার কান্নার এক্সপ্রেশান দেখে মনে হচ্ছিল কেউ যেন নেল পালিশটা লুকিয়ে রেখেছে আর তিনি পার্টিতে যেতে পারছেন না। আরে চাচীজান, মিঁয়াজান যে শেষ যাত্রায় যাচ্ছে, একটু বুঝুন। আচ্ছা বুঝবেন পরে, আগে একটু কুলকুচি করে নিন।

আবার ফালতু বকা শুরু করছি। স্বভাব কোথায় যাবে। যাই হোক, এবার শাহরুখের কথায় আসি। হেব্বী একখানা চেজিং সিন আছে বুঝলেন দাদা। মানে ওই ফ্যান-এ যেরকম ছিল আরকি, তবে এবারেরটা দেখে আর হাসি লাগে নি। কারণ দুজন মাফিয়া ওরকম ভাবে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতেই পারে, যেটা ফ্যান সিনেমায় একজন সিনেমার নায়কের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

অভিনয় বলতে গেলে - চার আনা বাজিগর, ছয় আনা চক দে, তিন আনা রামজানে, দু-আনা ডুপ্লিকেট এবং এক আনা সুরজ হুয়া মধ্যম মিশিয়ে দিলে যেটা হয়, সেরকম অভিনয়টাই তিনি করেছেন। মজা করে বললাম বটে, তবে সেরা পাঁচ না হলেও, আমার কাছে এটা শাহরুখের সেরা দশ অভিনয়ের মধ্যেই স্থান পাবে।

শাহরুখের চাইল্ডহুড বন্ধু সাদিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহম্মদ জেসান আয়ুব। ওনাকে সেই রানঝানা থেকে চিনি। তারপর তনু ওয়েডস মনু ২ তেও ওনার অভিনয় বিশেষ করে ক্যাজুয়াল ভঙ্গীমা এবং সংলাপ উচ্চারণ নজর কেড়েছিল। এই ছবিতেও আলাদা করে নজর কাড়বে। শাহরুখের ছায়াতে ঢেকে যাবে না এটা শিওর।

আর যারা সাপোর্টিং-এ ছিল, সকলেই ভালো, বলিউডে খারাপ সাপোর্টাররা কোনোদিন ছিল না। অতুল কুলকর্নীকে অনেকদিন পর একটা ভালোগোছের চরিত্রে দেখতে পেলাম। তবে সব থেকে মজা নিয়েছে কিন্তু অভিনেতা নরেন্দ্র ঝা। মানে সারা দুনিয়া যখন কাবিল এবং রইস নিয়ে প্রায় দু-ভাগ সেখানে এই লোকটাই দুটি সিনেমাতে বেশ দাপটের সাথে উপস্থিত রয়েছে।

ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড এফেক্ট খুবই ভালো। অতুলীনয়। কিন্তু সিনেমার গান খুবই অখাদ্য। কোনো গান ভালো নয়। না শুনতে ভালো, না দেখতে ভালো।

ক্যামেরার কাজ নজর কাড়ে। ক্লোজাপ শটের আধিক্য বেশী, তবু দেখতে খারাপ লাগে না। মানে অত বড় পর্দায় শুধু একটা চোখ দেখতে ভালোই লাগে, যদি সেটা শাহরুখের চোখ হয় আর কি !! এক চোখ দেখে তখন রাগকরে না কেউ। না, ভালো ক্যামেরা ইউজ হয়েছে। দেখতে ভালো লেগেছে।

সেই সাথে সম্পাদনার কাজও বেশ ভালো। সম্পাদনা চোখে যত কম, দেখা যায় তত সেটা ভালো। সুতো দিয়ে ডিম কেটে দিন, দেখুন সহজে কাটা জায়গাটা বোঝা যাবে না। সম্পাদনাটা ওরকম হওয়া উচিত। ভাঙ্গা বিস্কুটের টুকরোর মত হলে আর সম্পাদনা কি হল। মুশকিল হল সেই সিনেমায় সম্পাদনার সেই জোড়া দাগ গুলো একেবারে ইনভিজিবল করা যায় নি। একটু অস্পষ্ট হলেও কাটার দাগ রেখে গেছে।

কাহিনী তো ভালোই। মানে ওটা দেখতেই তো লোকে যায়। থোড়ী মানুষজন সানি লিওনির ঢাকা ফিগার দেখার জন্যে সিনেমায় যায় ? তা এই গল্পের কতটা রিয়েল, কতটা কাল্পনিক সেটা আমি জানি না। আমি কাকু সাংবাদিক নই। তবে গল্পটা মোট চারজন মিলে লিখেছে।এখানে অবশ্য আক্ষরিক অর্থেই দশচক্রে ভুত ভগবান হয়েছে।

আমি আর কি বলব, যান দেখে আসুন। বায়োপিক হিসেবে দেখবেন না মশালা ফিল্ম হিসেবে দেখবেন সে আপনার ব্যাপার। তবে একজনকে ক্রিমিলান যিনি বেআইনি ধান্দা করেন, রাস্তা ঘাটে মারামারি করেন, লোকজনকে পটাপট খুন করে ফেলেন তার চরিত্রকে খুব বেশী গ্লোরিফাই করা উচিত নয়।

আমাদের দেশটা তো খুব একটা উঁচুদরের নয়। এখানে শিলা কি জওয়ানি হিট হওয়ার পর শিলা নামের মহিলারা রাস্তায় বেরোতে পারেন না। এখানে লোকের মুখের কথায় মানুষকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, মানে এক্কেবারে মেরেই ফেলা হয়। তাই বলছিলাম, নেতাজী, ভগত সিং, মাদার টেরেজাকে নিয়ে আরো বেশী বেশী করে সিনেমা বানান, তাদেরকে গ্লোরিফাই করুন। সামান্য মদ বিক্রেতাকে হিরো করে দেবেন না প্লীজ। এদেশের পক্ষে সেটা খুবই ভয়ানক।

বিঃদ্রঃ সানি লিওনিকে নিয়ে কিছু বলতে না পারার জন্যে সরি, ঐ গানের দৃশ্যটি আমি অ্যাভয়েড করেছি। সিরিয়াসলি নট ইন্টারেস্টেড। আসলে সেই সময় হোয়াটসঅ্যাপে নোংরা জোকসে ব্যস্ত ছিলাম

Full Cast and Crew of Raees

Film Name : Raees
Release Date :
25th January, 2017
Director :
Rahul Dholakia
Producers :
Red Chillies Entertainment, Excell Entertainment
Writer : Rahul Dholakia, Harit Mehta, Asish Vashi, Niraj Sukla
Distributor : Red Chillies Entertainment
Starring : Shahrukh Khan, Mahira Khan, Nawazuddin Siddiqui, Atul Kulkarni
Cinematography : K U Mohanan
Editing : Deepa Bhatia
Music : Ram Sampath



Popular Short Films and Music Videos
Atmiyo Short Film Amaro Porano Jaha Chay
Polatok - Short Film Atmiyo Theme Song
Mr Husband Short Film Poster Soniye Music Video
Astana Short Films How To Make a Low Budget Short Film
Anyo Loker Bou Poster How Much You Can Earn From Youtube